ছেলেদের চুলের যত্নে তেল ।। ছেলেদের চুলের যত্ন নেওয়ার টিপস

0
98

চুল কে সাধারণত একটি নারীর সৌন্দর্যের প্রতীক হিসাবে দেখা হয়। কিন্তু চুলে কি শুধুই মেয়েদের সৌন্দর্য্য? নাকি চুল নিয়ে শুধু মেয়েরাই যত্নশীল? একদমই নয়, চুলে ছেলেদেরও সৌন্দর্য্য বাড়ায় আর তাছাড়া ছেলেরাও চুলের প্রতি যত্নশীল। চুল পড়া নিয়ে মেয়েরা যেমন চিন্তিত হয়ে যায় ছেলেরাও কিন্তু তেমনি চুল হারানোর ভয়ে থাকে। কোনো ছেলেই চাই না তার মাথার সব চুল পড়ে যাবে। কিন্তু চুল পড়া কমাতে বা চুল কে সুন্দর করে তুলতে ছেলেরা কিভাবে চুলের যত্ন নিবেন জানেন কি? অনেক তো হলো মেয়েদের চুলের যত্ন নেওয়ার কথা আজ ছেলেদের চুলের যত্ন কিভাবে নিবেন সেইটাই শেয়ার করবো। ছেলে হয়ে চুলের যত্নে কি কি করবেন, তেল ইউজ করবেন কিনা, কিভাবে যত্ন নিবেন সবটাই আজ আপনাদের শেখাবো। তাই লেখা টা শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন।

চুলের যত্নে তেল :

মেয়েদের চুলের জন্য যেমন তেল প্রয়োজন ছেলেদের চুলের জন্যও তেমনি তেল প্রয়োজন। তেলের কথা আলাদা করে বলার কিছুই নেই। কারণ মেয়ে হোক বা ছেলে চুল তো একই তাই না? চুলের পুষ্টির জন্য তেলের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু কোন তেল চুলের জন্য ভালো? ছেলেদের চুলের জন্য ভালো ৫টি তেল জেনে নেই চলুন।

১. কোকোনাট অয়েল :

চুলের গোড়া মজবুত করতে এবং চুল পড়া কমাতে কোকোনাট অয়েল সবচেয়ে কার্যকরী। কোকোনাট ওয়েলের মধ্যে আছে ভিটামিন ই ও ভিটামিন কে। দুটো ভিটামিন চুলের জন্য অনেক বেশি দরকারি উপাদান। তাই শ্যাম্পু করার ৩০ মিনিট আগে চুলে কোকোনাট অয়েল ইউজ করুন এবং ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

২. ক্যাস্টর অয়েল :

চুলের যত্নে ক্যাস্টর ওয়েলের ভূমিকা অনেক টা। চুল কে মজবুত করে, নতুন চুল গজাতে এবং চুলের কোমলতা ধরে রাখতে ক্যাস্টর অয়েল আপনাকে সাহায্য করবে। ক্যাস্টর অয়েল ভিটামিন ই, মিনরেলস প্রোটিন ও এসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিডের সমন্বয়ে গঠিত। এই উপাদান গুলো চুল কে মজবুত করতে ও নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। সপ্তাহে দুদিন রাতে ঘুমনোর আগে চুলে ক্যাস্টর অয়েল দিয়ে ভালো করে ম্যাসেজ করে সারারাত রেখে দিন এবং পরের দিন সকালে শ্যাম্পু করে নিন।

৩. জোজোবা অয়েল :

যাদের মাথায় ড্যানড্রাফ এর প্রবলেম আছে জোজোবা অয়েল তাদের জন্য বেশি উপকারী। কারণ জোজোবা ওয়েলে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট একটি এমন পুষ্টি উপকরণ যা মাথার ড্যানড্রাফ দুর করে। ড্যানড্রাফ দুর করে ঝরঝরে ও সিল্কি চুল পেতে অবশ্যই জোজোবা অয়েল ইউজ করুন। সপ্তাহে ২ দিন জোজোবা অয়েল দিয়ে ভালো করে মাথার স্কাল্পে ম্যাসেজ করুন। চেষ্টা করবেন সবসময় আনরিফাইন্ড জোজোবা অয়েল ইউজ করার।

৪. সর্ষের তেল :

সর্ষের তেলের সাথে চুলের সম্পর্ক যেনো চিরকালের। সরিষার তেলে থাকে জিঙ্ক, বিটা ক্যারোটিন, সেলেনিয়াম ও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। যা স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় ও চুলের গোড়া মজবুত হয়। এছাড়াও চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। সর্ষের তেলের পুষ্টি উপাদান দ্রুত চুলের গোড়ায় পৌঁছাতে পারে। সপ্তাহে অন্তত ১ দিন সর্ষের তেল একটু গরম করে মাথায় ম্যাসেজ করুন। চুলের জন্য তো ভালো হবেই এছাড়াও এটি আপনার মেন্টাল হেলথ কে ভালো রাখবে।

৫. আমন্ড অয়েল :

চুলের সব সমস্যার সমাধান যেনো আমন্ড ওয়েলের কাছেই আছে। কারণ আমন্ড অয়েল এমন একটি তেল যা দিয়ে চুলের প্রায় সব সমস্যার সমাধান করা যায়। আমন্ড ওয়েলের পুষ্টি উপাদান চুলের বৃদ্ধি তরন্তরিত করে এবং নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে। চুলের সমস্যা সমাধানে আমন্ড ওয়েল একাই ১০০ । সপ্তাহে দুদিন রাতে ঘুমনোর আগে আমন্ড ওয়েল চুলের গোড়ায় ইউজ করুন। পরের দিন শ্যাম্পু করে নিন।

চুলের জন্য কোন কোন তেল টা সবচেয়ে ভালো জেনেই তো গেলেন। এইবার আপনার প্রবলেম অনুযায়ী একটি তেল বেছে ইউজ করতে শুরু করে দিন। উপরের ৫টি তেল আপনার চুলের জন্য বেস্ট অপশন হবে।

চুলের যত্নে কিছু টিপস :

চুলের যত্নে শুধু চুলে সঠিক তেল ইউজ করলেই হবে না। চুল কে সুন্দর করে তুলতে আরো কিছু টিপস ফলো করতে হবে। চুলের যত্নে কি কি করবেন সেই টিপস গুলোই এখন আপনাদের বলব।

১. শ্যাম্পু :

চুল ও মাথার স্কাল্প পরিষ্কার রাখতে শ্যাম্পুর বিকল্প নেই কিন্তু অতিরিক্ত শ্যাম্পু ইউজ করলেও চুলের ক্ষতি হতে পারে। তাই সপ্তাহে মাত্র ২/৩ দিন শ্যাম্পু করবেন। এবং শ্যাম্পু টি যেনো হয় খুবই মাইল্ড।

২. কন্ডিশনার :

শুধু শ্যাম্পু ইউজ করলেই হবে না। শ্যামপুর পড়ে অবশ্যই একটি কন্ডিশনার ইউজ করতে হবে। ছেলেদের চুল সাধারণত ছোট হয় তাই কন্ডিশনার ইউজ করার সময় কন্ডিশনার যেনো স্কাল্পে লেগে না যায় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।

৩. হেয়ার কালার :

বিভিন্ন স্টাইলের জন্য আজকাল চুলে কালার করা টা খুবই কমন। কিন্তু চুলের সৌন্দর্য্য রক্ষা করতে গেলে অবশ্যই ভালো মানের কালার ইউজ করতে হবে চাইলে এক্সপার্ট দের হেল্প নিতে পারেন।

৪. হেয়ার স্টাইলিং টুল :

আজকাল চুলের স্টাইলের জন্য বিভিন্ন স্টাইলিং টুল অর্থাৎ হিট ইউজ করা হয়। চেষ্টা করবেন সেগুলো থেকে বিরত থাকার আর যদি ইউজ করতেই হয় তাহলে অবশ্যই হিট প্রটেক্টর ইউজ করে নিবেন।

৫. চিরুনি :

চুল ছোট হোক বা বড়ো চুলে চিরুনি করা টা খুবই দরকারি। দিনে ৩/৪ বার চিরুনি করা ভালো। এতে স্কল্পের ব্লাড সার্কুলেশন ভালো হয় যা চুলের জন্য ভালো। এবং অবশ্যই নিজের চিরুনি ইউজ করবেন।

চুলের যত্নে এই টিপস গুলো অনেক উপকারী। চুলে সঠিক নিয়মে নিয়মিত তেল ইউজ করলে এবং উপরের টিপস গুলো ফলো করলে আপনার চুল ও অনেক বেশি মজবুত হবে গোড়া থেকে এবং চুল পড়া কমবে। আশা করছি ছেলেদের চুলের যত্নে আজকের লেখা অনেক বেশি হেল্পফুল হবে। আমি এইতো আশা করছি যে উপরের সব গুলো টিপস ফলো করলে আপনার চুলের সব সমস্যার সমাধান হবে। তাই আজকের লেখা টি শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!